নিজস্ব প্রতিবেদক।। সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে নতুন সচিব হিসেবে মো. মাসুদ করিম যোগদানের পর পরিষদের দৈনন্দিন সেবা কার্যক্রমে গতি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধা পেতে আগের তুলনায় এখন কম সময় লাগছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে সেবাপ্রত্যাশী মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে এবং অনেকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে তারা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। নতুন সচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আগের সময়ে সেবা নিতে এসে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। বর্তমানে সচিব মো. মাসুদ করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের কাছ থেকে তার বিষয়ে ভালো কথা শুনছি। বিশেষ করে যাদের বিভিন্ন কার্ড বা কাগজপত্রের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য তিনি উদ্যোগ নিচ্ছেন।”
ওই ভুক্তভোগীর দাবি, বিধবা ও প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বরাদ্দ অনুযায়ী সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেউ যেন তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং নম্বরসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে আগে যে ধরনের জটিলতা ছিল, বর্তমানে সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
এদিকে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় বাড়ানো এবং বকেয়া কর আদায়ের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের পেশা ও ব্যবসা-সংক্রান্ত কর, ব্যবসায়িক হোল্ডিং কর এবং বসতভিটাসহ প্রযোজ্য বিভিন্ন কর আদায়ের বিষয়ে কাজ করছেন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা।
উক্ত বিষয়ে সচিব মো. মাসুদ কারিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট বা কর নির্ধারণ-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রকৃত কর আদায় ব্যাহত হতে পারে। তাই করদাতাদের তথ্য, হোল্ডিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সঠিকভাবে যাচাই করে কর নির্ধারণ ও আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন কর, রেট ও ফি আরোপ করতে পারে। একই আইনে কর নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মূল্যায়ন এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর আদায়ের বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সঠিকভাবে ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করা গেলে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়বে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় পরিষদের সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সেবাপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমের এই গতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সরকারি সেবা পেতে কোনো নাগরিককে যেন অযথা হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। তবে করের নির্দিষ্ট হার বা দৈনিক/বার্ষিক কত টাকা করে আদায় হবে-এ বিষয়ে পরিষদের অনুমোদিত কর-তফসিল বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই না করে কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।